আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফাম জানিয়েছে বর্তমানে বিশ্বের ধনী আট ব্যক্তির কাছে থাকা সম্পদ; পুরো পৃথিবীর অর্ধেক জনসংখ্যার কাছে থাকা সম্পদের সমান। ধনী-গরিবের এ পার্থক্য গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
অর্থাৎ এই আটজনের হাতে যে পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তা বিশ্বের ৩৬০ কোটি মানুষের মোট সম্পদের সমান। অতি ধনীর সঙ্গে পৃথিবীর অর্ধেক দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য এখন পূর্ব ধারণার চেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজ সোমবার (১৬ জানুয়ারি) এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
অক্সফাম বলছে, গেল এক বছরে অতি ধনী ও দরিদ্রতম ব্যক্তিদের মধ্যে ব্যবধান অনেক বেড়েছে। এই ব্যবধান কমাতে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে এ ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনরোষ বাড়তেই থাকবে।
বৈষম্যের কারণে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের আলোড়ন তৈরি হবে। রাজনৈতিক আলোড়ন বলতে গত বছর মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিজয় ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের সরে আসার বিষয়টি (ব্রেক্সিট) উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করেছে অক্সফাম।
অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের প্রধান নির্বাহী উইনি বাইয়ানিমা বলেন, ‘এটা খুবই চিন্তার বিষয় যে বিপুল পরিমাণ সম্পদ একেবারেই অল্প কিছু মানুষের হাতে রয়েছে। অথচ এখনো পৃথিবীর প্রতি ১০ জনের একজন মাত্র ২ ডলারে দিন চালায়। বৈষম্যের কারণে কোটি কোটি মানুষ দারিদ্র্যের ফাঁদে আটকা পড়ছে। এটা আমাদের সমাজ ও গণতন্ত্রের মধ্যে ফাটল তৈরি করছে।
গত বছর অক্সফামের একই ধরনের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ৬২ জন অতি ধনীর হাতে রয়েছে পৃথিবীর অর্ধেক পরিমাণ সম্পদ। পরে তা ৯ জনে সংশোধন করে অক্সফাম। সম্পদের দিক থেকে এবারও সবার উপরে আছেন বিল গেটস। ওয়ারেন বাফেট রয়েছেন তৃতীয় অবস্থানে এবং মার্ক জাকারবার্গ রয়েছেন ষষ্ঠ স্থানে।
এর মধ্যে বিল গেটসের অর্থ ৭৫ বিলিয়ন ইউএস ডলার, এমানসিও ওর্তেগা ৬৭ বিলিয়ন ইউএস ডলার, ওয়ারেন বাফেটের ৬০ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার, কার্লোস স্লিম হেলুর ৫০ বিলিয়ন ইউএস ডরার, জেফ বেজোসের ৪৫ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মার্ক জাকারবার্গের ৪৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ল্যারি অ্যালিসনের ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাইকেল ব্লুমবার্গের ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
‘অ্যান ইকোনমি ফর দ্য ৯৯ পারসেন্ট’ শিরোনামে অক্সফামের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত দরিদ্রতম ১০ ভাগ মানুষের আয় বেড়েছে বছরে তিন ডলারের কম। সেই জায়গায় ধনীতম ১ ভাগ ব্যক্তির সম্পদ বেড়েছে ১৮২ গুণ!
অক্সফামের অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী ড. হেলেন জোক বলেন, বৈশ্বিক সম্পত্তির বিষয়ে আগে তাঁরা যে ধারণা করেছিল অবস্থা তার চেয়েও খারাপ। তাই এখন ব্যবসায়ীদের অনেক কিছুই করার সময় এসেছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ফোরামের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান লাউস শোয়াব বলেন, এটা একই বিষয় যা ফোরামে ২০ বছর আগে আলোচিত হয়েছে। তাই একজন নেতা হিসেবে তাদের সারা দেওয়া উচিত।
Comments
comments